রহস্যে ঘেরা আমাদের এই পৃথিবী

মানুষ যখন থেকে বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই পৃথিবীর রহস্য আবিষ্কারের জন্য দূর্ণিবার আকর্ষনে চষে বেড়াচ্ছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত। নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়া যেমন মানুষের নেশা তেমনি পৃথিবীও নিজের রহস্যগুলো নিজের গহ্বরে আকড়ে ধরে আছে। মানুষ বিস্মিত হয়েছে, অমীমাংসিত রহস্যের সামনে দাঁড়িয়ে অবাক হয়েছে তবুও থেমে থাকেনি। আজো কিছু মানূষ উত্তর খুঁজে যাচ্ছে পৃথিবীর চমক সৃষ্টিকারী সব রহস্যের কারণ জানার জন্য। জানা-অজানা এই পৃথিবীর উন্মোচিত কিছু অমীমাংসিত বৈচিত্রের কথাই আজ আমরা জানবো।

চুম্বক পাহাড়

নিউ ব্রুনসউইকের মনকটনের এই চুম্বক পাহাড়টি নিজের যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছে। ১৯৩০ সালে হঠাত্ করে আবিষ্কার করা হয় যে এই পাহাড়টির আশপাশ দিয়ে কোন গাড়ি গেলে সেটায় কিছু গড়বড় দেখা যায়। বিশেষ করে সেই গাড়িটা যদি এর ওপর দিয়ে পার হতে যায় তাহলে কোনরকম ধাক্কা ছাড়াই পেছনের দিকে কোন এক অদৃশ্য আকর্ষণে গড়িয়ে যেতে থাকে সেটি। প্রথমটায় বেশ অবাক হয়ে যায় সবাই এই অদ্ভূত ব্যাপার দেখে। তবে দ্রুতই গবেষণা শুরু হয়। নানা মানুষ নানারকম মতামত দিতে শুরু করে। এবং একটা সময় গিয়ে সবাই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই পাহাড়ের আশেপাশে রয়েছে কোন বিশাল আকারের চুম্বক। লৌহ নির্মিত কোন পদার্থ এর পাশে থাকলেই তাই সেটাকে নিজের দিকে টানে সে। তবে এরপর থেকে এখন অব্দি অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও খুঁজে বের করা যায়নি সেই চুম্বকটিকে।

ওল্ড ফেইথফুল

মাটি থেকে তৈরি হওয়া ঝর্ণা পৃথিবীতে অনেক আছে। আছে ইয়োলোস্টোন জাতীয় পার্কের মাঝেও বেশ কয়েকটি। তবে এই পার্কটি যদি কোন একটি জিনিসের জন্যে তৈরি হয়ে থাকে সেটি হচ্ছে একটি ঝর্ণাই। আর সেই ঝর্ণাটির নাম ওল্ড ফেইথফুল। ওল্ড ফেইথফুলের জন্যেই আমেরিকায় প্রথমবারের মতন ১৮৭২ সালে ইয়োলোস্টোন উদ্যানকে জাতীয় উদ্যানের সম্মানে ভূষিত করা হয়। ঝর্ণাটিতে প্রতি ৫৫ থেকে ১২০ মিনিট পরপর উদগীরন হয় এবং সেটা টিকে থাকে টানা দুই থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত। পার্কে প্রতি বছর বেড়াতে আসা ৩.৫ মিলিয়ন পর্যটকের জন্যে সবসময়কার প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে এই অসাধারণ আর অনন্য ঝর্ণাটি।

রক্তপ্রপাত

সবসময় জলপ্রপাত নামটির সাথে পরিচিত আমরা দেখে এসেছি পাহাড়ের কোল থেকে পানির প্রচন্ড ধারাকে নীচে গড়িয়ে পড়তে। তাদের উচ্চতা, সৃষ্টি আর সৌন্দর্য নিয়ে বিস্মিত হয়েছি আমরা। কিন্তু এরচাইতেও বড় রকমের বিস্ময় প্রকৃতি আমাদের জন্যে তৈরি করে রেখেছে অ্যান্টার্কটিকায়। আর সব প্রপাতের মতন এই প্রপাতটি পাহাড় নয়, বরফের ওপর অবস্থিত এই প্রপাতটির বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে আর দশটা প্রপাতের মতন পানি নয়। বয়ে পড়ে রক্তের ধারা। অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন রক্ত কি করে আসবে এখানে? ঠিক রক্ত নয়। রক্তের মতন লালচে এক ধরনের পদার্থ বয়ে যায় এই প্রপাত থেকে। আর তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে ব্লাড ফলস বা রক্তপ্রপাত। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে রক্ত না হলেও এই লাল রংএর তরলটি কি আর এটি আসেই বা কোথা থেকে? উত্তর জানা যায়নি এখনো। তবে মনে করা হয় এখানকার আশেপাশে লৌহ আর সালফারের ধারা রয়েছে যেগুলোর মিশ্রণেই এই প্রপাতের রং লাল দেখা যায়।

লংইয়ারবিয়েন

শুনতে অবাক করা মনে হলেও কথাটি পুরোপুরি সত্যি। আমাদের এখানে প্রতিদিন একবার সূর্য ওঠে। সকাল হয়। দুপুর আসে, বিকেল হয়, সন্ধ্যা নামে। সূর্য ডুবে গিয়ে জন্ম দেয় রাতের। চাঁদ ওঠে আকাশ জুড়ে। রাত শেষে চাঁদ চলে গিয়ে সূর্য উঁকি মারে আবার ঐ আকাশটাতে। কিন্তু নরওয়ের এই স্থানটিতে অদ্ভূতভাবে সূর্য ওঠে না কখনোই। উঠবে কি করে? সূর্য চলে গেলে তবে তো উঠবে! ২০ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সবসময় দিনের আলো থাকে এই স্থানটিতে। রাত নামেইনা! ভবুন তো একবার, মাঝরাতেও যদি জানলা খুলে দেখেন যে আখাশে একটা বড়সড় সূর্য ঝুলছে তাহলে কেমনটা লাগবে? আর এমনই সমস্যায় পড়তে হয় লংইয়ারবিয়ানের মানুষদেরকে। দুই-তিনদিন চলার পর শরীর তো শরীর, মানুষ নিজেও ঝামেলায় পড়ে যায় কখন দিন আর কখন রাত সেটার হিসেব রাখতে।

সার্টসে

শেষ বরফ যুগ চলে যাওয়ার পর থেকে পৃথিবী খুব একটা পরিবর্তন করেনি নিজেকে। আর তাই প্রায় অনেকটাই এঁকঘেয়েমিময় হয়ে গিয়েছে এটি অনেকের কাছে। বিশেষ করে যারা পছন্দ করেন পৃথিবী ঘুরতে। এখন আপনার মনে হতেই পারে যে পৃথিবীতে আর কিছু দেখার নেই, নতুন কিছুই নেই এখানে! আর সবার হতাশামূলক এই কথাবার্তার প্রতিবাদেই হয়তো পৃথিবী ১৯৬৩ সালে পানির নীচে একটি অগ্ন্যুত্পাত করে আইসল্যান্ডের দ্বীপগুলোর কাছে। নিজের ওপর বসে থাকা মানুষগুলোকে আরো একটু চমক দিতেই ১৯৬৭ সাল অব্দি অপেক্ষা করায় পৃথিবী সবাইকে আর তার পরপরই মানুষ খুঁজে পায় সম্পূর্ণ নতুন একটি দ্বীপ যেটা কিনা আগে ছিলই না! পরবর্তীতে মানুষ আইসল্যান্ডের এই নতুন দ্বীপটির নাম দেয় সার্টসে।

রেলামপাগো ডেল কাটাটাম্বো

ভেনিজুয়েলার লেক মারাকাইবোর দক্ষিনপশ্চিমে অবস্থিত কাটাকাম্বো ও এর পাশের কাটাটাম্বো নদীতে প্রায়ই পর্যটকদের ভীড় লেগে থাকে। সারারাত তারা নদীর ওপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজে বেড়ান। কি সেটা? শুনলে অবাক হবেন যে সেটা আর কিছু নয়, বরং বিদ্যুতের চমকানি! ভাবছেন বিদ্যুত্ তো পৃথিবীর প্রায় সবখানেই চমকায়। সেটা দেখবার জন্যে ভেনিজুয়েলায় ছুটে আসবার কি আছে? আছে! আর আছে যে সেটাকে প্রমাণ করতেই কাটাটম্বের এই স্থানটিতে মিনিটে ২৫ কিংবা তার বেশি পরিমাণ বিদ্যুত্ চমকায়। যেখানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে মিনিটে ১২ বার বিদ্যুত্ চমকানোটা বাড়াবাড়ি রকমের কিছু একটা। এখানকার পরিবেশ, অবস্থান, বাতাস, পাহাড় আর সাগরের সাথে বাতাসের ঘর্ষণ- এ সবখিচু মিলেমিশেই তৈরি করে অসাধারন এই ব্যাপারটির। এখানকার বৈদ্যুতিক আলোর পৃথিবীর সবচাইতে বেশি আলোর মাত্রা রয়েছে বলেও মনে করেন সবাই।

সূত্রঃ ইন্টারনেট ও প্রিয় ডট কম

Leave a Comment