শীত ও ফ্যাশন ভাবনা

শীত প্রায় চলে এসেছে আর এই সময়ে তাই অনেকেই ভাবছেন এবার শীতে কোন ধরনের পোশাকটা কেনা যায় কিংবা কোন পোশাক এই সময়ে ট্রেন্ডি। এই শীতে কি কি শপিং করতে পারেন তা আগে থেকে জেনে শপিং করতে গেলে ভুল কিংবা শুধু শুধু টাকা নষ্ট হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল শীতের পোশাক সম্পর্কে আসুন জেনে নেই আর একনজরে দেখে নেই এবারের শীতে কোন পোশাক পরা আর কোনটা না পরা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

নারীদের জন্য উইন্টার মানে অন্যরকম ভাল লাগার একটি ব্যাপার। কারণ এসময় অনেক স্টাইলিশভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা যায়। মেয়েরা এসময় হাই নেক বা ভি নেক কার্ডিগান, ফুল স্লিভ টি শার্ট পরতে পারেন।

শাড়ির সঙ্গে শাল ও একটি উলেন ক্যাপও অনেক ফ্যাশনেবল হবে। বেসিক জিনিসগুলো সব সময় মাথায় রাখতে হবে সবার। মিক্স এন্ড ম্যাচ করে সব পোশাক পরা উচিৎ।

বাজারে কোন স্টাইল ইন বা আউট হলো তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন কিন্তু নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা।
মেয়েরা ডেনিম প্যান্ট বা লেগিংস এর সঙ্গে হুডি জ্যাকেট পরতে পারেন। নিচে লং টিউনিক্। এছাড়া স্পোর্টস জিপার জ্যাকেটও খুব ভাল লাগবে।

এখন আসলে ওয়েস্টার্ন পোশাকের চলই বেশি। কেউ ফেন্সি ব্লেজার পরলে সঙ্গে শিফন বা উলেনের লং মাফলার গলায় ঝুলিয়ে নিতে পারেন।

দেশে লোকাল অনেক ভাল ভাল ব্র্যান্ড রয়েছে। সেখান থেকে কম বাজেটে এসব পোশাক কেনা যাবে। যেগুলো একসঙ্গে অনেক ফ্যাশনেবল ও ট্রেন্ডি।

পুরুষ যারা একটু ফ্যাশান কনসাস তারাই শুধুমাত্র শপিংয়ে যেয়ে ট্রেন্ডি পোশাকের খোঁজ করে থাকেন। আমাদের দেশে খুব বেশি শীত যেহেতু পড়ে না তাই ভারি শীত পোশাকের চল এখানে নেই। এসব বুঝে আবহাওয়া ফ্রেন্ডলি পোশাকই আমাদের সবার কেনা উচিৎ।

এখানে পুরুষরা যারা কপোরের্ট, দিনে অফিস করেন তারা ফরমাল ড্রেসের উপর জ্যাকেট বা ব্লেজার পরতে পারেন। এসব জ্যাকেট ব্লেজারের উপর কেউ যদি উলেন স্কার্ফ বা সিল্কের স্কার্ফ চড়িয়ে নেন তাহলে অনেক ফ্যাশনেবল লাগবে।

এছাড়া যারা একটু ক্যাজুয়াল থাকতে পছন্দ করেন তারা ডেনিমের প্যান্ট বা সেমি ফরমালের সঙ্গে হুডি জ্যাকেট পরতে পারেন। এটা অনেক ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ।

আরও পড়ুনঃ শীতের সাজ ও মেকআপ টিপস

আর যারা পাজামা পাঞ্জাবী পরেন তারা সঙ্গে শাল পরতে পারেন। শাল পরতে না চাইলে ইনার টপ পরে নিতে পারেন। এতে শীতের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

আর বাচ্চাদের তাদের ক্ষেত্রে সাবার আগে ফ্যাশনেবলের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সেফটিনেস। কারণ তাদের যেমন দ্রুত ঠান্ডা লেগে যায় আবার বেশি মোটা কাপড় পরালে দ্রুত গরমও লাগে। সে ক্ষেত্রে তাকে কেমন পোশাক পরালে সে সেফটি থাকবে তা বিবেচনায় রাখা উচিৎ। তাদের জন্য একটু হালকা পোশাকই ভাল।

ছোট বাচ্চাদের জন্য মায়েরা ফুল বডি স্যুট পরাতে পারেন, এটা একদম নিট কাপড়ের হয়।

দু’তিন বছরের বাচ্চার জন্য কমন জিনিস যেমন, সুয়েটার জাম্পার পরানো যেতে পারে।

যাদের ওয়ারড্রবে গত বছরের একটি কালো বা এশ কালারের ব্লেজার আছে তাদের এই বছরে সেম কালার কিনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না মোটেও, এতে শুধু টাকারই অপচয় হবে। এমন জিনিস সবসময় কেনা উচিৎ যেনো তা পরের বছরও পরা যায়। শুধু শুধু টাকা অপচয় করার কোন মানে হয়না। যদি একটু পরিকল্পনা করে শীতের পোশাক কিনা যায় যেমন, কোন ব্লেজার বানালে তা নরমাল ব্লেজার না বানিয়ে একটু ইউনিক ডিজাইনের বানাই যেন পরের বছরও তার চলটা থাকে তাহলে পরের বছরও সেটিকে নতুন দেখাবে। এমন জিনিস কেনা উচিৎ যা কয়েক বছর পর্যন্ত ফ্যাশনেবল থাকে। তাই জিনিস কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান ট্রেন্ড ফলো করার চাইতে ইউনিক জিনিসের প্রতিই সবার নজর দেয়া উচিৎ। আর একটা বিষয় হচ্ছে, সব সময় ট্রেন্ডি পোশাকের পেছনে না ছুটে নিজের একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরী করা উচিৎ সবার। তার যা পরতে ভাল লাগে, রুচিশীল ও ফ্যাশনেবলভাবে নিজেকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করা যায় সেদিকেই নজর দেয়াটা জরুরী সবার জন্য।

(ইন্টারনেট অবলম্বনে)

Leave a Comment