গরমটা এখনো মিলিয়ে যায়নি তবে রাতের শেষের দিকে একটু শীতের ছোঁয়াটাও পাওয়া যাচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনের সময় আবহাওয়া এমনই থেকে। শীতের এই আগমনী বার্তা টের পাওয়ার সাথে সাথে ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন এখন থেকেই। তেমন বাড়তি কিছু ভাবার দরকার নেই শুধুই দরকার নিয়মিত পরিচর্যা। যে প্রসাধনীগুলো তুলে রেখেছিলেন আগামী শীতের জন্য সেগুলোই এখন থেকে ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন। এতে শীতের সময়টিতে আপনার ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট হবে না, রুক্ষতার ছাপ পড়বে না আপনার ত্বক ও চুলে। ব্যস্ততায় হাতে সময় কম মিললে বাড়িতে যত্নের পাশাপাশি পার্লারে বিশেষ ট্রিটমেন্টও করাতে পারেন। তবে এমন আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় হাত ও পায়ের ত্বকের।

রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বললেন, ঋতু পরিবর্তনের এ সময় হাত ও পায়ের চামড়া সবচেয়ে বেশি কুঁচকে যায়। এ জন্য নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে। পায়ের নিচের ত্বকও খসখসে হয়ে যায় তাই সপ্তাহে এক দিন ম্যানিকিওর ও পেডিকিওর করার পরামর্শও দিলেন তিনি। প্রতিদিন যদি বাইরে বের হওয়ার দরকার পরে তাহলে বাড়ি ফিরে হাত-পা সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে এর কারণে বাড়তি ময়লা ও মরা চামড়া ত্বক থেকে উঠে যাবে আর তখন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে। এখন থেকেই ত্বকের যত্ন নেয়া শুরু করলে শীতের সময় পা ফাটবে না এমনটাই বলছিলেন আফরোজা পারভীন।

প্রতিদিন অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলা অসম্ভব গরমের কারণে ত্বকে তৈলাক্ত ভাব বোধ করতে পারেন। পানি দিয়ে ধোয়ার পরে অবশ্য অনেকেই শুষ্কতা অনুভব করেন। এ জন্য রাতে ক্রিম লাগাতে হবে। বাড়িতে যত্নের পাশাপাশি পারলারে বিশেষ ট্রিটমেন্টও করাতে পারেনক্রিমযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। চুলে তেল লাগাতে হবে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। চুলে নমনীয়তা বজায় থাকবে এমন যত্নগুলো করতে হবে। তাহলে শীতের সময় আর বেশি ক্ষতি হবে না।

না-ঠান্ডা, না-গরম—এ রকম আবহাওয়ায় মাঝেমধ্যে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা যায়। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, ধুলাবালু, ফুলের রেণু, ঘাস থেকে পোলেন (ফুলের রেণু) বাতাসে উড়ে গায়ে এসে লাগে। অনেকের তখন অ্যালার্জি হয়। আরেকটা জিনিস, সন্ধ্যার পর ছোট ছোট পোকা ঘরে আসে। আলো বন্ধ করে দিলেও ঘরে থেকে যায়। গায়ে বসলে অনেক সময় খেয়াল না করে সরাতে গিয়ে শরীরের সঙ্গে ঘষা লেগে যায়। এতে অ্যালার্জিক বার্ন হয়ে যায়। পোকা লাগার জন্য ত্বকের সেই জায়গাটা পুড়ে গেছে এমন অনেকেই আমার কাছে আসেন। শহরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের ত্বকে এখন এ দুই ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।

বাড়িতে যত্নের পাশাপাশি পারলারে বিশেষ ট্রিটমেন্টও করাতে পারেন। রোদে গেলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। নিয়মিত সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা চাই। সমুদ্রসৈকতে গেলে রোদ থেকে বাঁচার জন্য আরও সুরক্ষা নিতে হবে। পানির মধ্যে রোদ পড়ে প্রতিফলিত হয়। এ ছাড়া সরাসরি রোদ লাগে গায়ে। ৩৫ বা আরও বেশি এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। আমাদের দেশে যেই সানস্ক্রিনগুলো পাওয়া যায়, ত্বকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি তার প্রভাব থাকে না। আফজালুল করিম গোসলের পরে ও রাতে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। যেসব সাবানে আর্দ্রতা বেশি সেসব সাবান এ সময় ব্যবহার করবেন।

(সুত্রঃ প্রথম-আলো)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *